চোখের শুষ্কতা দূর করার রিফ্রেশিং ড্রপ
চোখে শুষ্কতা বর্তমানে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা। দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে দিকে তাকিয়ে থাকা, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, ধূলা বালি, শুষ্ক আবহাওয়া, এসি বা ফ্যানের বাতাসের কারণে চোখে শুষ্কতা দেখা দিতে পারে।
এ সময় চোখে জ্বালাপোড়া, খসখসে ভাব, চুলকানি, চোখে কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি কিংবা সাময়িক ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা হতে পারে। চোখের এই অস্বস্তি কমাতে অনেক ক্ষেত্রে রিফ্রেশিং বা লুব্রিকেটিং আই ড্রপ, যাকে artificial tears-ও বলা হয়।
সূচিপত্রঃ চোখের শুষ্কতা দূর করার রিফ্রেশিং ড্রপ
চোখ শুকিয়ে যাওয়ার আসল কারণ কী
চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা বর্তমানে অনেকের মধ্যে দেখা যায়। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার, টপ বা টেলিভিশনে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেওয়া, ধুলাবালি ও দূষণের মধ্যে থাকা এবং অতিরিক্ত ফ্যান বা এসির বাতাসে সংস্পর্শে থাকার কারণে চোখে শুষ্কতা তৈরি হতে পারে। স্বাভাবিকভাবে চোখের ওপর একটি পাতলা স্তর থাকে, আপনার চোখকে আর্দ্র, পরিষ্কার ও আরামদায়ক রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু যখন চোখ পর্যাপ্ত অস্ত্র পারে না অথবা চোখের অস্ত্র খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়, তখন চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে Dry Eye বা চোখে শুষ্কতা সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও বেশি হতে পারে, কারণ মনোযোগ দিয়ে স্ক্রিন দেখার সময় মানুষ স্বাভাবিকের তুলনায় কম পলক ফেলে।
আরও পড়ুনঃ চোখের শুষ্কতা দূর করার রিফ্রেশিং ড্রপ
ফলে চোখের অস্ত্র দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে চোখে জ্বালাপোড়া, খচখচে ভাব, চুলকানি, লাল ভাব কিংবা চোখে কিছু আটকে থাকার মতো অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়া, বাতাস, ধোঁয়া ও ধুলাবালীয় চোখে আদ্রতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই প্রতিদিনের জীবনযাপন ও পরিবেশ চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে। তবে চোখ শুকিয়ে যার পেছনে শুধু স্ক্রিন ব্যবহার বা আবহাওয়াই দায়ী নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের আশ্র উৎপাদন ও অস্ত্রশস্ত্রের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনে আসতে পারে, যার কারণে কিছু মানুষের মধ্যেও শুষ্কতার প্রবণতা বাড়ে। আবার চোখের পাতার কিছু সমস্যা অস্ত্রশস্ত্রের ভারসাম্যর পরিবর্তন নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা অন্যান্য শারীরিক কারণেও চোখে শুষ্কতা দেখা দিতে পারে।
চোখের শুষ্কতায় রিফ্রেশিং ড্রপ কীভাবে কাজ করে
চোখের শুষ্কতা ও অস্বস্তি কমাতে সাধারণত লুব্রিকেটিং আইড্রব Artificial Tears ব্যবহার করা হয় এসব ড্রপ চোখের পৃষ্ঠে আর্দ্রতা যোগ করতে সাহায্য করে এবং শুষ্কতার কারণে হওয়া জ্বালাপোড়া, খোঁচখচে ভাব বা চোখের কিছু আটকে থাকার মতো অস্বস্তি সাময়িকভাবে কমাতে পারে। তবে বাজারে বিভিন্ন ধরনের রিফ্রেশিং ড্রপ পাওয়া যায় এবং প্রতিটি ড্রপের উপাদান ও ব্যবহার এক নয়। তাই শুধু নাম দেখে যেকোনো ড্রপ ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো। সাধারণ চোখে শুষ্কতার জন্য ব্যবহৃত কিছু লুব্রিকেটিং ড্রপের উৎপাদনের নাম হল-
- কারবক্সিমিথাইলসেলুলোজ(সিএমসি) আই ড্রপ
- হাইপ্রোমেলোজ আই ড্রপ
- সোডিয়াম হায়ালুরোনেট আই ড্রপ
- হাইড্রোক্সিপ্রোপাইল গুয়ার আই ড্রপ
- প্রিজারভেটিভ-আর্টিফিশিয়াল টিয়ার্স
কোন লক্ষণ দেখলে বুঝবেন চোখে শুষ্কত
চোখের শুষ্কতা হলে এর লক্ষণ সবসময় এক রকম হয় না। অনেক সময় শুরুতে খুব সামান্য অস্বস্তি থাকে, তাই বিষয়টি সহজে অবহেলা করা হয়। চোখে শুষ্কতা দেখা দিলে প্রথম দিকে চোখে জ্বালাপোড়া, খোঁচখচে ভাব বা চোখের ভেতরে যেন ধুলা কিংবা ছোট কোনও কণা আটকে আছে-এমন অনুভূতি হতে পারে। দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে থাকলে এই অস্বস্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। অনেকের চোখে লাল হয়ে যায়, চুলকানি বা ক্লান্তি অনুভূত হয় এবং বারবার চোখে পিটপিট করতে ইচ্ছে করে। আবার শুষ্কতার কারণে চোখের সাময়িক ঝাপসা দেখা অনুভূতি হতে পারে, যা পলক ফেলে কিছুটা পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।
আরেকটি বিষয় হল, চোখ শুকিয়ে গেলেও অনেক সময় উল্টো চোখ দিয়ে অতিরিক্ত পানি পড়তে পারে। কারণ চোখের পৃষ্ঠে অস্বস্তি তৈরি হলে শরীর স্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত পানি তৈরি করে সে অস্বস্তি কমানোর চেষ্টা করতে পারে। এছাড়া দীর্ঘ সময় বই পড়া, স্ক্রিন দেখা বা মনোযোগ দিয়ে কোনও কাজ করার পর চোখ ভারিও ক্লান্ত লাগা, আলোতে অস্বস্তি হওয়া কিংবা চোখের জ্বালাপড়া করতে পারে। যদি এসব লক্ষণ নিয়মিত দেখা যায়, বিশেষ করে স্কিন ব্যবহারের পর বারবার ফিরে আসে। তাহলে চোখের শুষ্কতার বিষয়টি দেখা উচিত। তবে একই ধরনের লক্ষণ এলার্জি বা অন্য কোনও সমস্যার কারণও হতে পারে। তাই চোখে তীব্র ব্যথা, লাল ভাব আলো সহ্য না হওয়া বা দৃষ্টিতে হঠাৎ পরিবর্তন হলে নিজে থেকে কোনো ড্রপ ব্যবহার না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষত পরামর্শ নেওয়া উচিত।
রিফ্রেশিং ড্রপ বাছাই করার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি
চোখে শুষ্কতার জন্য রিফ্রেশিং ড্রপ কেনার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা প্রয়োজন। শুধু ড্রপের গায়ে রিফ্রেশিং বা চোখ ঠান্ডা করে লেখা আছে দেখেই সেটি ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ সব ধরনের আই ড্রপের উপাদান ও কাজ এক নয়। চোখে শুষ্কতার ক্ষেত্রে সাধারণত ডুব্লিকেটিং আই ড্রপ বা Artificial Tears ব্যবহার করা হয়, চোখে পৃষ্ঠায় আর্দ্রতা যোগ করে এবং শুষ্কতার কারণে হওয়ার জলাপোড়া, খচখচে ভাব ও অস্বস্তি সাময়িকভাবে কমাতে সাহায্য করতে পারে তার ড্রপ বেছে নেওয়ার সময় এর সক্রিয় উপাদান, ব্যবহারের উদ্দেশ্য, সংরক্ষণের নিয়ম ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। কারো যদি দিনে বারবার লুব্রিকেটিং ড্রপ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ Preservative-Free ধরনের ড্রপ বিবেচনা করা যেতে পারে।
আরেকটি বিষয় হল, চোখ লাল দেখালে যে কোনো রেডনেস রিলিফ বা চোখ লালভাব কমানোর ড্রপ কে শুষ্কতার ড্রপ মনে করা ঠিক নয়। কিছু ড্রপ কাজ চোখের শুষ্কতা কমানো নয়, বরং অন্য ধরনের সমস্যার জন্য ব্যবহার করা হয়। আবার কারও চোখে শুষ্কতার কারণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় স্কিম দেখা, পরিবেশের শুষ্কতা বা ধুলাবালি অন্য কারোর ক্ষেতে এর পেছনে চোখের পাতার সমস্যা । আশ্বস্তের পরিবর্তন বা অন্য কোনও কারণ থাকতে পারে। তাই নিজের সমস্যা না বুঝে দীর্ঘদিন ধরে যেকোনো ড্রপ ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে ড্রপ ব্যবহারের পর চোখে অতিরিক্ত জালাপোড়া, ব্যথা, লাল ভাবা দৃষ্টিতে পরিবর্তন হলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সারাদিন স্ক্রিন দেখলেও কীভাবে চোখকে রাখবেন সতেজ
বর্তমানে পড়াশোনা, কাজ, বিনোদন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে দিনের বড় একটি সময় মোবাইল, কম্পিউটার ও ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় একটানা স্ক্রিন দেখলে চোখে চাপ পড়তে পারে এবং চোখ শুষ্ক, ক্লান্ত বা জ্বালাপোড়া করতে পারে। তাই চোখকে সতেজ রাখতে প্রথমেই স্ক্রিন ব্যবহারের মাঝে নিয়মিত বিরতি নেওয়ার অভ্যাস করতে হবে। একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না থেকে মাঝে মাঝে দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকালে চোখ কিছুটা বিশ্রাম পেতে পারে। স্ক্রিন দেখার সময় সচেতনভাবে বেশি করে পলক ফেলাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মনোযোগ দিয়ে মোবাইল বা কম্পিউটার দেখার সময় অনেকের পলক ফেলার হার কমে যায়, ফলে চোখের ওপর থাকা অশ্রুস্তর দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে।
কখন রিফ্রেশিং ড্রপ নয়, ডাক্তার দেখানো জরুরি
চোখ সামান্য শুকিয়ে গেলে বা স্ক্রিন ব্যবহারের পর হালকা অস্বস্তি হলে লুব্রিকেটিং বা রিফ্রেশিং ড্রপ কিছু ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে। কিন্তু চোখ তীব্র বা বাড়তে থাকা ব্যথা, অতিরিক্ত লালভাব, ভালো সহ্য না হওয়া, ঝাপসা বা দৃষ্টির পরিবর্তন, চোখে আঘাত লাগা, চোখ থেকে অস্বাভাবিক স্রাপ বের হওয়া কিংবা কোনও কিছু চোখে ঢোকার পর সমস্যা শুরু হলে শুধু রিফ্রেশিং ড্রপ ব্যবহার করে অপেক্ষা করা উচিত নয়। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে দৃষ্টি হঠাৎ পরিবর্তন হলে বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো।
এছাড়া চোখের শুষ্কতা যদি বারবার ফিরে আসে, দীর্ঘদিন ধরে থাকে বা দৈনন্দিন পড়াশোনা ও কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে, তাহলে কারণটা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ সব ধরনের চোখের অস্বস্তির কারণ শুধু শুষ্কতা নয়; অ্যালার্জি, চোখের পাতা সমস্যা বা অন্য কোনও চোখের সমস্যার কারণও এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই নিজের মতো করে বারবার ড্রপ পরিবর্তন না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয় নিরাপদ। বিশেষ করে ড্রপ ব্যবহারের পর অস্বস্তি আরও বেড়ে গেলে সেটিও চিকিৎসককে জানানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কোন ভুলগুলো চোখের শুষ্কতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে
চোখে শুষ্কতা হলে অনেকে না বুঝে এমন কিছু অভ্যাস করেন, যা অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ভুল হল দীর্ঘ সময় বিরতি ছাড়া মোবাইল, ল্যাপটপে স্কিনের দিকে তাকিয়ে থাকা স্ক্রিনে মনোযোগ দেওয়ার সময় পলপ ফেলা হার কমে যেতে পারে, ফলে চোখের আর্দ্রতা দ্রুত কমে শুষ্কতা বাড়তে পারে। একইভাবে খুব কম আলো বা অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলোতে স্ক্রিন দেখা, স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা ঠিক না রাখা এবং ঘন ঘন বিরতি না নেওয়া চোখের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। আবার ফ্যান বা এসির বাতাস সরাসরি চোখের দিকে লাগানো, ধুলাবালি ও ধোঁয়ার মধ্যে দীর্ঘ সময় থাকা এবং চোখে অস্বস্তি হলে বারবার হাত দিয়ে চোখ ঘষার অভ্যাসও এড়িয়ে চলা উচিত।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল হল নিজের মতো করে যে কোনো আই ড্রপ ব্যবহার করা। চোখ শুকিয়েছে মনে হলেই সব ধরনের রিফ্রেশিং বা রেডনেস রিলিফ ড্রপ উপযুক্ত হবে-এমনটা নয়।ভুল ধরনের ড্রপ বা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ব্যবহার করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। একইভাবে পুরনো বা মেয়াদ শেষ হওয়া ড্রপ ব্যবহার করা কিংবা ড্রপের মুখ চোখ বা হাতের সঙ্গে লাগিয়ে ব্যবহার করাও ঠিক না। চোখে শুষ্কতা যদি বারবার হয়, দীর্ঘদিন থাকে, অথবা ব্যথা করে, অতিরিক্ত লালভাব কিংবা দৃষ্টিতে পরিবর্তনের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে শুধু দ্রব্যের উপর নির্ভর না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে।
রিফ্রেশিং ড্রপ আসলে চোখে কী কাজ করে
চোখে শুষ্কতা বা অস্বস্তি কমাতে ব্যবহৃত রিফ্রেশিং ড্রপকে সাধারণত লুব্রিকেটিং আর ড্রপ বা Artificial Tears বলা হয়। আমাদের চোখের ওপর স্বাভাবিকভাবে অস্ত্রর একটি পাতলা স্তর থাকে, যা চোখকে আর্দ্র ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে কোন কারণে এই আর্দ্রতা কমে গেলে চোখের জ্বালাপোড়া, খচখচে ভাব, চুলকানি, চোখে কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি কিংবা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। রিফ্রেশিং ড্রপ চোখের পৃষ্ঠে অতিরিক্ত আর্দ্রতা যোগ করে এবং চোখের ওপর একটি মসৃণ স্তর তৈরি করতে সাহায্য করে। এর ফলে চোখের পাতা ও চোখের পৃষ্ঠের মধ্যেও ঘর্ষণ কমে এবং শুষ্কতার কারণে তৈরি হওয়া অস্বস্তি সাময়িকভাবে কমাতে পারে।
তবে রিফ্রেশিং ড্রপ শুধু চোখের আর্দ্রতা যোগ করে অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে; চোখে শুষ্কতার মূল কারণ সবসময় দূর করে না। তাই শুধু ড্রপ ব্যবহার করলে চোখে যত্ন সম্পন্ন হয় না। দীর্ঘ সময় স্ক্রিন দেখলে নিয়মিত বিরতি নেওয়া, সচেতনভাবে বেশি করে পলক ফেলা, স্ক্রিনে উজ্জ্বলতা আরামদায়ক রাখা এবং ফ্যান ও এসির বাতাস সরাসরি চোখে না লাগানোর মতো অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সব রিফ্রেশিং ড্রপের উপাদান ও ব্যবহার এক নয়, তাই নিজের মতো করে যে কোনো ড্রপ দীর্ঘদিন ব্যবহার করা উচিত নয়। ড্রপ ব্যবহারের পর যদি চোখে জ্বালা পরা বা অস্বস্তি বেড়ে যায়, অথবা চোখে শুষ্কতা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তবে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
চোখের কোন লক্ষণগুলো একদম অবহেলা করা উচিত নয়
চোখের সামান্য শুষ্কতা, ক্লান্তি বা হালকা জ্বালাপোড়া হলে কিছু সময় বিশ্রাম নিলে অনেক ক্ষেত্রে অস্বস্তি কমে যেতে পারে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখা দিলে সেটিকে সাধারণত চোখে শুষ্কতা ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। যেমন চোখে তীব্র বা বাড়তে থাকা ব্যথা, হঠাৎ দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া বা দৃষ্টির পরিবর্তন, চোখ অতিরিক্ত লাল হয়ে যাওয়া, আলো সহ্য করতে কষ্ট হওয়া, চোখে আঘাত লাগার পর সমস্যা তৈরি হওয়া কিংবা চোখ থেকে অস্বাভাবিক শ্রাব বের হওয়া-এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে হঠাৎ বৃষ্টির পরিবর্তন বা তীব্র ব্যথা হলে শুধু রিফ্রেশিং ড্রপ ব্যবহার করে অপেক্ষা করা ঠিক নয়।
এছাড়া চোখের শুষ্কতা যদি বারবার ফিরে আসে, দীর্ঘদিন ধরে থাকে, বা কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে কিংবা সাধারণ যত্ন নেওয়ার পরও অস্বস্তি কমে না, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। কারণ চোখের শুষ্কতার মতো অনুভূতি অন্য কিছু চোখের সমস্যার কারণেও হতে পারে। তাই নিজের মতো করে বারবার ড্রপ পরিবর্তন না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চোখ পরীক্ষা করানো ভালো। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে সমস্যার কারণ শনাক্ত করা এবং উপযুক্ত চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয়।
লেখকের মন্তব্যঃ চোখের শুষ্কতা দূর করার রিফ্রেশিং ড্রপ
চোখ আমাদের প্রতিদিনের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, অথচ ব্যস্ততার কারণে আমরা অনেক সময় যত্ন নেওয়ার বিষয়টি অবহেলা করি। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা,পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেওয়া কিংবা চোখে অস্বস্তি হওয়ার পরও বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়া-এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে চোখের শুষ্কতা ও অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই চোখে শুষ্কতা দেখা দিলে শুধু রিফ্রেশিং ড্রপের ওপর নির্ভর না করে এর কারণ খুঁজে বের করা এবং প্রতিদিনের অভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী লুব্রিকেটিং ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে কোন ড্রপ আপনার চোখের জন্য উপযুক্ত তা নিশ্চিত হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url