গর্ভাবস্থায় প্রেসার বেড়ে গেলে করণীয়

গর্ভাবস্থায় প্রেশার বেড়ে যাওয়া মা ও গর্ভের শিশুর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য ঝুঁকি হতে পারে। এ সময় রক্তচাপ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং শরীরে কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া জরুরি।

সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব। তাই গর্ভাবস্থায় প্রেশার বেড়ে গেলে কী কী করণীয়, কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে এবং কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে-এসব সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রত্যক গর্ভবতী নারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সূচিপত্র:গর্ভাবস্থায় প্রেসার বেড়ে গেলে করণীয়

গর্ভাবস্থায় প্রেসার বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ 

গর্ভাবস্থায় একজন নারীর শরীরে নানা ধরনের শারীরিক ও হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে, যা প্রভাব রক্তচাপের উপর পড়তে পারে। অনেক সময় গর্ভাবস্থায় আগের থেকে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এ সময় প্রেশার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া অতিরিক্ত ওজন, গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যার মতো কিছু স্বাস্থ্যগত কারণ উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী হতে পারে। পরিবারের কারও উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকলেও ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে। প্রথমবার গর্ভধারণ, একাধিক সন্তান ধারণ কিংবা আগের গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি অতিরিক্ত মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং কিছু ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় জটিলতার কারণে রক্তচাপ বেড়ে যে মায়ের খাবারের সঙ্গে গর্ভে শিশু সুস্থতারা সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে যাদের রক্তচাপ বেশি।তে পারে।

উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণগুলো কীভাবে বুঝবেন

গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ অনেক সময় স্পষ্ট কোনো লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই শুধু শরীরে কোনো অস্বস্তি হচ্ছে কিনা, সেটার উপর নির্ভর করে প্রেশার বেড়েছে কিনা বোঝা যায় না। এজন্য নিয়মিত রক্তচাপ মাপা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তবে প্রেশার বেশি হলে কিছু সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন-তীব্র বা বারবার হওয়া মাথা ব্যথা, চোখের ঝাপসা দেখাবার দৃষ্টিতে পরিবর্তন, স্বাভাবিক তুলনায় হঠাৎ বেশি ফোলা, বিশেষ করে মুখো হাত খোলা ভাব, পেটের উপরের দিকে বা পাজরের নীচে ব্যথা এবং অস্বাভাবিকভাবে অসুস্থ বা দুর্বল লাগা এসব লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় তীব্র মাথাব্যথের সঙ্গে চোখ ঝাপসা দেখা, শ্বাসকষ্ট, পেটের ওপরের দিকে ব্যথা বা হঠাৎ অতিরিক্ত ভোলা ভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। কারণ এগুলো কখনো কখনো গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতার সতর্ক সঙ্কেত হতে পারে। তাই নিয়মিত চেকআপের পাশাপাশি ওই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তচাপ পরীক্ষা করা, রিপোর্ট সংরক্ষণ করা এবং শরীরে নতুন কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা চিকিৎসককে জানানো উচিত। সময়মত সতর্কতা চিকিৎসা মা পর্বের শিশু নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রেসার বাড়লে তাৎক্ষণিক করণীয় কী কী

গর্ভাবস্থায় প্রেশার বেড়ে গেলে প্রথমে শান্ত থাকতে হবে এবং কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে। এরপর সঠিকভাবে আবার রক্তচাপ মেপে রিডিংটি লিখে রাখা ভালো। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ চললে তা নির্ধারিত সময়ে নিতে হবে, তবে নিজে থেকে কোনো ওষুধের ডোজ পরিবর্তন না নতুন ওষুধ শুরু করা যাবে না। পর্যাপ্ত পানি পান করা, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং ভারী কাজ অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে বিরত থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রেশার বারবার বেশি থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী করণীয় জেনে নেওয়া উচিত।আর যদি রক্তচাপ ১১৬/১১০mmHg বা তার চেয়ে বেশি।  হয়, অথবা তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা কিংবা পেটের ওপরের দিকে তীব্র ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া দরকার।

গর্ভাবস্থায় কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন

গর্ভাবস্থায় মায়ের খাবারের সঙ্গে গর্ভে শিশু সুস্থতা সরাসরি সম্পর্ক আছে। বিশেষ করে যাদের রক্তচাপ বেশি তাদের খাবারের প্রতি আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত লবণ যুক্ত খাবার যেমন আচার. চিপস, চানাচুর, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, সস ও অতিরিক্ত নোনতা প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া উচিত। এসব খাবারে সোডিয়াম বেশি থাকতে পারে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড ও অতিরিক্ত ঝাল-নোনতা খাবার নিয়মিত খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো। অতিরিক্ত মিষ্টি, কোমল পানীয় এবং বেশি চিনি থাকা প্যাকেটজাত পানীয়ও সীমিত রাখা উচিত। পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং তাজা, পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া এ সময় বেশি উপকারী।

গর্ভাবস্থায় কিছু খাবার শুধু রক্তচাপের কারণে নয়, সংক্রমণের ঝুঁকির কারণেও এড়িয়ে চলা দরকার। কাঁচা বা অর্ধ সেদ্ধ ডিম, মাংস ও মাছ ভালোভাবে রান্না না করে খাওয়া উচিত নয়। কিন্তু দুধ বা দুধ দিয়ে বেশি অনিরাপদ খাবার এবং ভালোভাবে না ধোঁয়া ফল ও শাকসবজিও এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।  অতিরিক্ত ক্যাফেনযুক্ত কফি, বা এ ধরনের পানীয় সীমিত রাখা ভালো। তবে প্রেশার বেড়ে গেলে নিজের ইচ্ছায় একেবারে লবণ বন্ধ না করে দেওয়া বা খাবারের পরিমাণ খুব কমিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। কারণ গর্ভ ব্যবস্থার মা ও শিশুর জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি অত্যন্ত জরুরি। তাই খাবারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুষম খাদ্য গ্রহণ করার সবচেয়ে উপকারী।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব

গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় মায়ের শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে, তাই প্রতিদিন খাবার, ঘুম, বিশ্রাম এবং দৈনন্দিন কাজের প্রতি বিশেষভাবে নজর দেওয়া দরকার। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, ভাজা পোড়া, ফাস্ট ফুড, ক্রিকেট জাত খাবার অতিরিক্ত মিষ্টি যতটা সম্ভব কমিয়ে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়া উচিত। শাক সবজি, ফল, ডাল, সম্পূর্ণ শস্য এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে। প্রভ্যাক্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চাপ-ক্যাফেইন যুক্ত পানীয় গ্রহণ সীমিত রাখা ভালো। তবে কোনও খাবার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত পরিশ্রম, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা এবং অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা উচিত। চিকিৎসক অনুমতি দিলে গর্ভাবস্থায় উপযোগী হালকা ও শারীরিক কর্মকাণ্ড করা যেতে পারে, তবে নিজের ইচ্ছায় কঠোর ব্যায়াম শুরু করা ঠিক নয়। নিয়মিত রক্তচাপ মাপায় এবং প্রতিটি চেকআপ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রক্তচাপের মাত্রা বেশি থাকলে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ থাকলে তা নির্ধারিত নিয়মে গ্রহণ করতে হবে এবং নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করা যাবে না।

প্রেসার বাড়লেই কি বিপদের আশঙ্কা থাকে

গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বেড়ে গেলে যে সঙ্গে সঙ্গে বড় কোনো বিপদ হবে এমনটা সবসময় নয়। কখনো কখনো মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অতিরিক্ত পরিশ্রম, ঘুমের অভাব বা সঠিকভাবে প্রেশার না মাপার কারণে রক্ত চাপ স্বাভাবিকের যে বেশি দেখা যেতে পারে তাই একবার প্রেসার বেশি পাওয়া গেলে আতঙ্কিত নাও হয়ে কিছুক্ষণ শান্তভাবে বিশ্রাম নিয়ে আবার সঠিক নিয়মে রক্তচাপ মাপা উচিত। তবে রক্তচাপ যদি বারবার বেশি থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা একদম ঠিক নয়। কারণ গর্ভাবস্থায় দীর্ঘ সময় উচ্চ রক্তচাপ থাকলে মায়ের পাশাপাশি গর্বের শিশুরও বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এজন্য নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা, চিকিৎসকের কাছে নির্ধারিত সময়ে চেক আপ করা এবং প্রেসারের রিপোর্ট সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত লবণ কি সত্যিই প্রেসার বাড়ায়

হ্যাঁ, অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার রক্তচাপ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। লবণের প্রধান উপাদান সোডিয়াম শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে গেলে শরীর পানি ধরে রাখতে শুরু করতে পারে। এর ফলে রক্তের পরিমাণ বাড়ে এবং রক্তনালীর ওপর চাপ পড়ে, যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে বা প্রেশার বেড়ে যাওয়া ঝুঁকি রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবারের ব্যাপারে আরও সতর্ক থাকা দরকার। শুধু রান্নার লবণ নয়, আচার, চিপস, চানাচুর, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, সস, ফাস্টফুড এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবারের মধ্যেও অনেক সময় লুকানো সোডিয়াম থাকে।

তবে গর্ভাবস্থায় প্রেশার বেড়ে গেলে লবণ একেবারে বন্ধ করে দেওয়া কোনও সমাধান নয়। শরীর ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ সোডিয়াম প্রয়োজন হয়। তাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অতিরিক্ত লবণ ও উচ্চ সোডিয়াম যুক্ত খাবার কমানো এবং সুষম খাবার গ্রহণ করা। খাবারের প্যাকেটজাত পণ্য কিনলে পুষ্টিগুণের লেভেলে সোডিয়াম পরিমাণ দেখে নেওয়া অভ্যাস করা যেতে পারে। পাশাপাশি তাজা শাকসবজি, ফলমূল, ডাল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা ভালো যদি গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বারবার বেশি থাকে, তাহলে নিজের ইচ্ছে লবণ বা খাবারের পরিমাণ ব্যাপকভাবে পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সুস্থ থাকতে কোন ভুলগুলো একদম করবেন না

গর্ভাবস্থায় সুস্থ থাকতে কিছু ভুল একেবারে করা উচিত নয়, বিশেষ করে যখন রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার সমস্যা থাকে প্রেশার বেশি দেখলে নিজের ইচ্ছায় কোনো ওষুধ খাওয়া বা চলমান ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। একইভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কঠোর ডায়েট করা, একেবারে লবণ বন্ধ করে দেওয়া বা খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়াও ঠিক নয়। অতিরিক্ত লবণযুক্ত, প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিয়ে অতিরিক্ত পরিশ্রম করা এবং মানসিক চাপকে গুরুত্ব না দেওয়া ভালো অভ্যাস নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রেসার বেশি থাকলেও নিয়মিত পরীক্ষা না করা বা চিকিৎসকের পরামর্শ এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, শ্বাসকষ্ট, পেটের ওপরের দিকে ব্যথা বা হঠাৎ অতিরিক্ত ফোলাভাবের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিজের বা অন্য কারোর পরামর্শে ঘরোয়া উপায় প্রেশার কখনও কমানোর চেষ্টা না করে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলায় নিরাপদ।গর্ভাবস্থায় সচেতনা, নিয়মিত চেকআপ, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা মা ও শিশু সুস্থতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

শেষ কথা: গর্ভাবস্থায় প্রেসার বেড়ে গেলে করণীয়

গর্ভাবস্থায় প্রেসার বেড়ে যাওয়া এমন একটি বিষয়, যাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপের শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না, তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসার বেড়ে গেলে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে বিশ্রাম নেওয়া, সঠিকভাবে আবার রক্তচাপ মাপা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। একই সঙ্গে অতিরিক্ত লবণযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া, পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ কমিয়ে রাখার চেষ্টা করা দরকার। তবে নিজের ইচ্ছায় কোনো ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা, কঠোর ডায়েট করা কিংবা প্রেসার কমানোর কোনো ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করা নিরাপদ নয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Israt jahan orni
Israt jahan orni
আমি একজন ব্লগার, কনটেন্ট রাইটার ও ডিজিটাল মার্কেটিং উৎসাহী। SEO, ব্লগিং, অনলাইন আয় এবং প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। পাঠকদের সহজ ভাষায় সঠিক ও কার্যকর তথ্য পৌঁছে দেওয়াই আমার লক্ষ্য। অনলাইন জগতে নতুনদের শেখার ও এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গাইড ও টিপস শেয়ার করে থাকি।