রোগা থেকে মোটা হওয়ার উপায়

এমন অনেক মানুষ আছে যারা খুব রোগা- যতই খায় না কেন তাও মোটা হতে পারে না। অনেক সহজে ফিটফাট হওয়া যায় মোটা হওয়া যায় আমরা আজকে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।


এমন বিষয় আমাদের লক্ষ্য করতে হবে যাতে ওগুলো পালন করলেও কোনও ক্ষতি না হয়। অনেকেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি রোগা বা পাতলা হওয়ার কারণে শারীরিক ও মানসিক ভাবে অস্বস্তি হয়। 

সূচিপত্রঃ সঠিক ভাবে মোটা হওয়ার সম্পর্কে আলোচনা

ওজন বাড়ানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো 

এমন অনেকে আছে যারা মনে করে যে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার ফাস্টফুড খেলে দ্রুত মোটা হওয়া যায়, কিন্তু এটা ভুল ধারণা। এতে শরীরে অনেক ক্ষতি হয়, শরীরের অতিরিক্ত ক্ষতিকর ফ্যাট জমে এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই প্রতিদিন খাবারে পুষ্টিকর ক্যালোরি ও বিশুদ্ধ খাবার রাখতে হবে। যেমনঃ-

  • ভাত
  • রুটি
  • আলু
  • ডাল
  • ডিম
  • দুধ
  • দই
  • মাছ
  • মাংস
  • বাদাম
  • কলা 
  • ঘি ইত্যাদি
আমাদেরকে আরেকটা জিনিস জানতে হবে। রোগা থেকে ধীরে ধীরে সুস্থভাবে মোটা বা ওজন বাড়াতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে যে এটি কোনো হঠাৎ করে হওয়া বিষয় না বরং এটি নিয়মিত জীবন যাপন সঠিক খাদ্য অভ্যাস এবং  প্রতিদিন পর্যাপ্ত ক্যালোরি এবং গ্রহণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ অর্থাৎ আপনি যত ক্যালোরি খরচ করেন তার থেকে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে।




তবে সেটি অবশ্য পুষ্টিকর খাবার থেকে হওয়া উচিত যেগুলো আমরা উপরে বলে দিয়েছি। দিনে তিন বেলা ভারী খাবারের পাশাপাশি ২-৩ বার হালকা নাস্তা করলে শরীর ধীরে ধীরে ওজন বাড়াতে সাহায্য পায়। শুধু খাবার খেলেই হবে না সঠিকভাবে হজম হওয়াটা জরুরি। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা, সময় মতো ঘুমানো (প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘন্টা) এবং মানসিক চাপ কম রাখা খুব দরকার। 
আমাদেরকে আরেকটা দিকেও খেয়াল রাখতে হবে যে জাঙ্ক ফুড বা অতিরিক্ত তেল চর্বিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে ওজন বাড়ানোর ঠিক নয়। কারণ এতে শরীরে ফ্যাট বারে, স্বাস্থ্য খারাপ হতে পার, ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে চললে কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্য শরীরে পরিবর্তন দেখা যায়। তা দ্রুত ফল খাওয়ার চিন্তা না করে নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর উপায় চলাটাই সবচেয়ে ভালো। 

নিয়মিত ব্যায়াম করার উপকারিতা

ওনেকেই এমন আছে যে তারা ভাবে রোগা মানুষদের ব্যায়াম করার দরকার নাই। কিন্তু বাস্তবে ব্যায়াম অনেক গুরুত্ব পুণ্য, শরীরকে সুন্দর ভাবে গরে তুলে। যেমন-
  • ব্যায়াম করলে ক্ষুধা বারে
  • মাসল বারে
  • শরীরে সুন্দর সেপ পাই

কিভাবে ব্যায়াম করব

  • জিম
  • পুশ-আপ
  • স্কোয়াত
  • হালকা ডাম্বেল
  • দোরানো (২০-৩০ মিনিট যথেষ্ট)
এক্সারসাইজ করলে মাংসপেশি বৃদ্ধি পায় এবং শরীর অনেক ফিট থাকে। ব্যায়াম ক্ষুধা বাড়ায়, ফলে বেশি খাওয়া সম্ভব হয় এবং শরীরের সঠিকভাবে ওজন বৃদ্ধি ঘটে।শুধু খাওয়া নয়, খাওয়ার সাথে ব্যায়াম মিলিয়ে আসল ফল পাওয়া যায়। এগুলো যদি আমরা নিয়মিত পালন করে চলি তাহলে আমরা নিশ্চয়ই মিডিয়াম সাইজের মোটা হইতে পারব যেটা মানুষজনের চোখে খারাপও লাগবে না।

পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রামের গুরুত্ব কতটুকু

ঘুম- এটা এমন একটা বিষয় যেটাকে মানুষ একদম পাত্তা দেয় না। কিন্তু সত্য বলতে, তুমি যদি ঠিকমতো না ঘুমাও তাহলে তুমি যে কষ্ট করে ব্যায়াম করছো, খাওয়া দাওয়া করছ এগুলো করে কোন লাভ নাই। আমরা যদি প্রতিদিন অন্তত কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম দেওয়া খুব দরকার। ঘুমের সময় শরীর নিজের ক্ষতিগুলো পূরণ করে এবং নতুন কোষ তৈরি করে যা আমাদের ওজন বাড়াতে অনেক সাহায্য করে, আমরা যা খায় এবং যতো ব্যায়াম করি তার আসল ফল আমরা ঘুম থেকেই পাই। ঘুমের মধ্যে শরীরে কোষ মেরামত হয়, নতুন মাংস পেশি তৈরি হয, এবং হরমোন ঠিকভাবে কাজ করে যা ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে গভীর ঘুমের সময় শরীর রোদ হরমোন বেশি নিঃসৃত হয় যা শরীরের গঠন উন্নত করে। যদি নিয়মিত কম ঘুম হয় বা ঘুমের মান খুব খারাপ হয়। তাহলে একেবারে ওজন কমে যেতে পারে হজম এর সমস্যা হতে পারে এবং শরীর খুব দুর্বল লাগে, মাথা ঘোরা লাগে, ফলে ওজন বাড়ানো কঠিন হয়ে যায়। ঘুমানোর আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং শান্ত পরিবেশ তৈরি করে ঘুমের মান ভালো হয়। 

মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার গুরুত্ব

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা মানসিক চাপ উদ্বেগ মানুষের খাদ্য গ্রহণের আগ্রহ কমিয়ে দেয় এবং শরীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে ওজন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তাই মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে নিয়মিত বিশ্রাম, বিনোদন, পছন্দের কাজ, বা সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা খুব বেশি চিন্তা করে ফেলি এতে থেকে আমাদের শরীরের অনেক ক্ষতি হয়।মানসিক সুস্থতা মানুষের জীবনে অন্যতম মৌলিক ভিত্তি, যা শারীরিক স্বাস্থ্য সামাজিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত সাফল্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। মন যদি খোলা থাকে মানসিক শান্তি যদি থাকে তাহলে খুব সহজে শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
একজন মানুষ যতই শারীরিকভাবে শক্তিশালী বা সক্ষম হোক না কেন যদি তার মানসিক অবস্থা অস্থির থাকে তাহলে তাঁর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সিদ্ধান্ত গ্রহণের এবং সামাজিক জীবনের গুণগত মান মারাত্মকভাবে প্রবাহিত হয়। তাই মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার কোনও বিকল্প বিষয় নয় বরং একটি সুস্থ ও সকল জীবনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমাদের সব সময় মানসিক অবস্থা ভালো রাখতে হবে। এতে শরীর অনেকটা ভাল থাকে।
মানসিক সুস্থতা মানুষের চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে, একজন সুস্থ মনের মানুষ যে কোনও পরিস্থিতিতে শান্তভাবে চিন্তা করতে পারে। খাওয়াদাওয়ার প্রতি তখন মনোযোগ আসে, তখন শরীর অনেক ভাল হয়ে যায়। অন্যদিকে যাদের অনেক মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা আছে তারা সঠিকভাবে কোনও কাজ করতে পারে না। কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারে না, খাওয়া দাওয়ার রুচি হারিয়ে যায, যার ফলে খাওয়া দাওয়া করতে পারে না। তখন যেটুকু খায় সেটা ওদের শরীরে লাগে না।

কোনো খারাপ অভ্যাস থাকলে তা পরিহার করা

রোগা থেকে মোটা হওয়ার পথেই শুধু ভাল খাবার খাওয়া বা ব্যায়াম করাটা যথেষ্ট নয় বরং সমান গুরুত্ব রয়েছে, খারাপ অভ্যাসগুলো পরিহার করার ওপরে। অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস আমাদের ওজন বাড়ানোর পথে বড়ো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কি কি অভ্যাস আমাদের পরিহার করতে হবে

  • ধূমপান
  • অতিরিক্ত চা কফি পান করা
  • অনিয়মিত জীবন যাপন
  • রাত জাগা
  • জাঙ্ক ফুড খাওয়া 


এগুলো করলে শরীরে ওজন বাড়ানো সম্ভব না। এতে শরীর আরও খারাপ হয়ে যায়, শরীর অনেক দুর্বল হয়ে যায়, অনেক ক্লান্ত লাগে। আমরা যে খাবারগুলো খাই এগুলো করলে ওই খাবারগুলো কোনও কাজেই লাগবে না।
ধূমপান শরীরে ফুঁদা কমিয়ে দেয় এবং হজম প্রক্রিয়া দুর্বল করে দেয়। ফলে যতই পুষ্টিকর খাবার খাওয়া হোক না কেন শরীরটা সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না। একইভাবে অতিরিক্ত চা-কফি পান করলে শরীরে ক্যাফেইন পরিমাণ বেড়ে যায় যা ক্ষুধা দমন করে দেয়, ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করতে ইচ্ছা করে না, ঘুমের ব্যাঘাত ঘোটাই। আর আমরা জানি ভাল গভীর ঘুম ছাড়া ওজন বাড়ানো প্রায় অসম্ভব। তাই এসব অভ্যেসগুলো থেকে বের হয়ে আসা খুব জরুরি। এটা সম্পূর্ণ পরিহার করাটাই ভালো হবে। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল অনিয়মিত জীবনযাপন। নির্দিষ্ট সময়ে না খাওয়া দেরি করে ঘুমানো পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম না নেওয়া এইসব অভ্যাস স্বাভাবিক ছন্দকে নষ্ট করে যেটা আমাদের শরীরের জন্য একদমই ঠিক না। এগুলো আমাদেরকে পরিহার করতে হবে।

শেষ কথা



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url