মাইগ্রেনের সমস্যা হলে কি করনীয়

মাইগ্রেনের ব্যথা কেন হয় তা নিয়ে আমরা আজকে জানব। এটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রবাহিত করছে।এটা সমাধানের জন্য আমরা আজকে আলোচনা করব। 

মাইগ্রেনের ব্যথাটা আমাদের নানা কারণে হয়ে থাকে। কী করলে কমবে এটা নিয়ে আমরা আজকে আলোচনা করব। চলেন শুরু করা যাক।

সূচিপত্রঃ মাইগ্রেনের ব্যথার বিষয় যত কিছু আছে সব গুলো নিচে দেওয়া হল।


মাইগ্রেনের সম্পরকে

মাইগ্রেন হলো এমন এক ধরনের মাথা ব্যথা যা সাধারণত মাথার এক পাশে তীব্রভাবে অনুভব হয়। এ ব্যথা কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। অনেক সময় এর সাথে বমি ভাব, আলো সহ্য না হওয়া, শব্দে বিরক্তি হয় ইত্যাদি হয়ে থাকে। অনেক সময় এরকমও হয় যে এ ব্যথাটা মাথায় একপাশে থাকে না চারি সাইডে ছড়িয়ে যায় মাথার। এটা সাধারণ মাথাব্যথার মতোও নয়, এটা অনেক বেশি তীব্র দীর্ঘস্থায়ী এবং জীবনযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এটা যদি নিয়ম মেনে বা ভালো চিকিৎসা নিয়ে চলি তাহলে এটা কমানোর সম্ভাবনা আছে।
মাইগ্রেন কমানোর জন্য নিয়মিত জীবন যাপন খুব গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া স্ট্রেট কমানো, হালকা ব্যায়াম করা, এবং মোবাইল কম্পিউটার কম ব্যবহার করা উচিত। যদি মাইগ্রেন বারবার হয় বা খুব বেশি তীব্র হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। 

মাইগ্রেনের লক্ষন

মাইগ্রেনের লক্ষণ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে কিছু লক্ষণ বলে দিচ্ছি।
  • মাথার একপাশে প্রচুর ব্যথা।
  • ভূমি ভাব বা বমি হওয়া।
  • চোখের ঝাপসা হওয়া বা আলোতে সমস্যা।
  • শব্দে অতিরিক্ত সমস্যা হওয়া।
  • মাথা ঘোড়া।
  • প্রচুর ক্লান্তি অনুভব হওয়া।
  • খাবারের প্রতি অরুচি।


মাইগ্রেন শুধু সাধারণ মাথাব্যথা নয় বরং এটি মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের একটি জটিল পরিবর্তনজনিত সমস্যা। এই অবস্থায় মস্তিষ্কের ভেতরে থাকা পেন প্রসেসিং সিস্টেম অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। যার ফলে সামান্য টিগারেরও তীব্র ব্যথা শুরু হতে পারে। অনেক সময় ব্যথা শুরু হওয়ার আগে শরীর অদ্ভুত কিছু সিগন্যাল দেয় যেমন ঘুম ঘুম ভাব হঠাৎ মন খারাপ হয়ে যাওয়া অর্থাৎ কিছু নির্দিষ্ট গন্ধে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা যে অনেকে বুঝতে পারেন না। মাইগ্রেনের আরেকটি বিষয় হলো পোস্টড্রোম ,ফেস। যেখানে ব্যথা কমে যাওয়ার পর মানুষ কয়েক ঘণ্টা বা একদিন পর্যন্ত খুব ক্লান্ত বিভ্রান্ত বা মানসিকভাবে দুর্বল অনুভব করে। অনেকেই এই সময়টাকে সাধারণ দুর্বলতা মনে করে। কিন্তু এটি আসলে মাইগ্রেনের একটি অংশ। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মাইগ্রেন সাইলেন্ট মাইগ্রেন আকারও হতে পারে। যেখানে তীব্র মাথাব্যথা না থাকলেও চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব দেখা দেয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট খাবার বা পরিবেশ নয় বরং হরমোনের সমস্যা এড়া টিগারের করতে পারে। বিশেষ করে ঘুমের চক্র ভেঙে গেলে মস্তিষ্কে সিগন্যাল আরও অস্থির হয়ে যায়। 

মাইগ্রেন হওয়ার কারণ

মাইগ্রেনের সঠিক কারণ পুরোপুরি জানা না গেলেও কিছু টিগার আছে।
  • বেশি বেশি চকলেট খাওয়া।
  • অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড খাওয়া।
  • পোসেসড খাবার খাওয়া।
পোসেসড খাবার মানে
  •  যেগুলো খাবার প্যাকেটে থাকে।
  •  যেগুলো দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য বানানো হয়।
  •  যেগুলোর অতিরিক্ত লবণ, চিন, তেল বা কেমিক্যাল থাকে। 

মানসিক কারণ

অতিরিক্ত চিল্লাচিল্লি করলে ব্যথা বাড়ে। আবার প্রচুর মানসিক চাপ নিলে সমস্যা হয় যা একেবারে শরীরের জন্য বা মানসিকতায় প্রভাব ফেলে প্রচুর। 
  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা।
  • প্রচুর ধকল যাওয়া।
  • ঘুমের অভাব হলে।

পরিবেশের কারণে

পরিবেশে অনেক ধূলাবালি চোখে মুখে ঢুকে যায়। আবার প্রচুর চিল্লা চিল্লির কারণেও হয়। তাই এসব থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে হবে। তাহলে আমাদের মাইগ্রেনের ব্যথাটা একটু হলেও কমবে।
  • বেশি আলো থেকেও হয়।
  • প্রচণ্ড গরম থেকেও হয়, আবার প্রচণ্ড ঠান্ডা থেকেও হয়।
  • প্রচুর শব্দ হলে মাইগ্রেনের ব্যথা বেড়ে যায়। 

শারীরিক কারণ

হরমোন হল শরীরের ভেতরের বার্তাবাহক রাসায়নিক যা রক্তের মাধ্যমে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন অঙ্গদের নির্দেশ দেয়। কখন ঘুমাবে,কখন ক্ষুধা লাগলো, মুড কেমন থাকবে ইত্যাদি। যখন কেউ হরমোনের পরিমাণ অর্থাৎ বাড়ে বা কমে তখন সেটাকে হরমোন পরিবর্তন বলা হয়। অনেক সময় শরীরে পানি শূন্যতার কারণেও মাইগ্রেনের ব্যথা হয়ে থাকে। দিনের সাধারণত ২-৩ লিটার পানি খাওয়া উচিত। এটা প্রায় ৮- 12 গ্লাস। 
  • হরমোন পরিবর্তন।
  • পানি শূন্যতা।
  • নিয়মিত জীবন যাপন।

মাইগ্রেন হলে তাৎক্ষণিক করণীয়

১. অন্ধকার ও শান্ত স্থানে বিশ্রাম নেওয়া

আলো ও শব্দ মাইগ্রেন কে বাড়িয়ে দেয়। তাই অন্ধকার রুমে শুয়ে থাকলে এবং বিশ্রাম নিলে ব্যথা অনেকটা কমে যা।

২. ঠাণ্ডা শেক দেওয়া।

কপালে বা মাথায় বরফ বা ঠাণ্ডা কাপড় দিলে আরাম পাওয়া যায়। এটা অনেক ভাল কাজ করে

৩. ঘুমানো।
অনেক সময় দেখা যায় ঘুম মাইগ্রেনের কমানো সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। ঘুমালে মাইগ্রেনের ব্যথা অনেক সময় কমেও যায়।

৪. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা।
ডিহাইড্রেশন মাইগ্রেনের অন্যতম কারণ।

৫. ওষুধ গ্রহণ করলে।
     1.  Paracetamol
     2.  Ibuprofen
     3.  Tafnil
এই ওষুধগুলো ব্যবহার করলে অনেক সময় কমে যায়। তবে নিজে নিজে নিয়মিত খাওয়া ঠিক না ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়াটাই ঠিক হবে।


দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধের উপায়

১. নিয়মিত রুটিন মেনে চলা।
প্রতিদি একই সময়ে ঘুমানো ও ওটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বেশি রাত জাগলে মাইগ্রেনের ব্যথা বেড়ে যায় তাই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে আবার সকালে উঠতে হবে।
২. স্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খাওয়া।
প্রকৃত খাবার বেশি খাওয়া এবং আরফাস্টফুড একটু কম খাইলে ভালো। কারণ ফাস্ট ফুড খাইলে মাইগ্রেনের ব্যথা প্রচণ্ড বেড়ে যায়।
৩. বেশি ধকল নেওয়া যাবে না।
যোগ ব্যায়াম, মেডিটেসন, হালকা ব্যায়াম করতে পারবেন।
৪. নিয়মিত ব্যায়াম।
হালকা হাঁটা বা ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি মাইগ্রেন কমাতে অনেকটা সাহায্য করে।
৫. ফিগার ডায়েরি রাখেন।
কখন মাইগ্রেন হচ্ছে কি খেয়েছেন এ সব লিখে রাখলে অনেকটা বুঝতে সুবিধা হয় ।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

 যে গুলো লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তার কাছে যাওয়া উচিত সেই লক্ষণগুলো নিচ্ছে উল্লেখ করে দেওয়া হলো। সেগুলো হলে অবশ্যই আপনারা ডাক্তারের কাছে যাবেন।
  •   খুব ঘন ঘন মাইগ্রেনের ব্যথা হওয়া।
  •   ব্যথায় অসহ্য হয়ে যাওয়া।
  •   ওষুধের কাজ না করা।
  •   নতুন ধরনের মাথাব্যথা শুরু হওয়া।


আর যেসব ভুলগুলো একেবারে করা যাবে না 

  •  ব্যথা সহ্য করে বসে থাকা।
  •  অতিরিক্ত পেনকিলার খাওয়া।
  •  ঘুম না হওয়া।
  •  নতুন ধরনের মাথাব্যথা শুরু হওয়া।
এসব লক্ষণ হওয়ার পরেও যদি আপনারা চুপচাপ বসে থাকেন। এতে থেকে আরও সমস্যা হইতে পারে।

মাইগ্রেন। এমন একটি সমস্যা যা শুধু শারীরিক ব্যথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন কার্যকমতা মনোযোগ এবং মানসিক অবস্থাকে প্রবাহিত করে, অনেক সময় মাইগ্রেন শুরু হওয়ার আগে ব্যক্তি স্বাভাবিক ক্লান্তি অর্থাৎ বিরক্তি বা অকারণ হাম তোলার মতো লক্ষণ অনুভব করতে পারে। এগুলোকে মস্তিষ্কের একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে ধরা হয়, যা বুঝা যে শরীরের ভেতরের কোনও পরিবর্তন ঘটছে না।
আরেকটি বিষয় হল মাইগ্রেনের সময় বা আগে অনেককেই স্বাভাবিক তুলনায় বন্ধ স্পর্শ বা পরিবেশের ছোটখাটো পরিবর্তনেও বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায়। এমনকি কিছু মানুষ নির্দিষ্ট গন্ধ পরিস্থিতিকে ভবিষ্যতের ব্যথের সাথে সম্পর্কিত করে যা মানসিকভাবে একটি পূর্ব ধারণা তৈরি করে এবং সমস্যাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। মাইগ্রেনের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র চিকিৎসা নয় পরম নিজের শরীরের সংকেত বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে বা কোনও অভ্যেসে পড়ে এ সমস্যা বাড়ে। এসব লক্ষ্য করলে ধীরে ধীরে একটি ব্যক্তিগত প্যাটার্নে বোঝা যায় এ সচেতনতা তৈরি হলে মাইগ্রেনের প্রভাব অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url